বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি তালিকায় না থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
মূলত ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) পর্যালোচনার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নির্ধারিত এই শুল্ক পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের বস্তার ওপর প্রযোজ্য হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়িত বিদ্যমান শুল্কের বাকি মেয়াদের জন্য এ নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে।
ডিজিটিআর জানায়, ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে ডিজিটিআর জানায়, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে পাটপণ্য ডাম্পিং অব্যাহত রাখায় দেশটির স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ডিজিটিআর বাংলাদেশের ৫৪টি এবং নেপালের ৩৬টি পাটকলের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি এবং নেপালের ৫টি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে।
ডিজিটিআরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের সার্বিক চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। ফলে ভারতীয় মিলগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে বিদেশি উৎপাদনকারীরা বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছিল। তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমেছে।
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যে প্রতি টনে সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু করে বিভিন্ন হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর সবচেয়ে কম প্রতি টনে ৫৯ ডলার শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানিতে প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো উৎপাদনকারী পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে তাদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক প্রদান করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ছয়টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সব ধরনের রপ্তানি পণ্যে পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস নামের অপর দুটি প্রতিষ্ঠান পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানিকৃত পাটের সুতা, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তায় প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত।
নিজস্ব প্রতিবেদক 












