বাংলাদেশ ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুজব ছড়ানো ভয়াবহ নৈতিক অপরাধ: মৌলভীবাজারে জুমার খুতবায় মুফতি শাহ আলম

 

সংবাদ প্রচার একটি দায়িত্ব, সত্য যাচাই একটি আমানত, আর গুজব ছড়ানো ভয়াবহ নৈতিক অপরাধ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামে সত্য তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব এবং গুজব ও মিথ্যার অপকারিতা নিয়ে মৌলভীবাজারে জুমার খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জুমার খুতবায় এসব কথা বলেন মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি শেখ মুহাম্মাদ শাহ্‌ আলম।

খুতবায় পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কিংবা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো ইসলামের নীতির পরিপন্থী। এতে মানুষের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও বিনষ্ট হতে পারে।

সাংবাদিকতাকে মহান ও দায়িত্বশীল পেশা উল্লেখ করে মুফতি শাহ্‌ আলম বলেন, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অন্যায়ের প্রতিবাদ, দুর্নীতি প্রকাশ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, অপসাংবাদিকতা, চাঞ্চল্যকর মিথ্যা সংবাদ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার, মন্তব্য কিংবা লাইক দেওয়ার আগেও তার সত্যতা ও সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি। পুরোনো ছবি, সম্পাদিত ভিডিও ও ভিত্তিহীন খবর প্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানান।

খুতবায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে খতিব বলেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে, তা-ই প্রচার করে।

পরিশেষে সাংবাদিক, আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য প্রচার এবং গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগ :

গুজব ছড়ানো ভয়াবহ নৈতিক অপরাধ: মৌলভীবাজারে জুমার খুতবায় মুফতি শাহ আলম

প্রকাশিত: ০৬:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

 

সংবাদ প্রচার একটি দায়িত্ব, সত্য যাচাই একটি আমানত, আর গুজব ছড়ানো ভয়াবহ নৈতিক অপরাধ—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামে সত্য তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব এবং গুজব ও মিথ্যার অপকারিতা নিয়ে মৌলভীবাজারে জুমার খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জুমার খুতবায় এসব কথা বলেন মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি শেখ মুহাম্মাদ শাহ্‌ আলম।

খুতবায় পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কিংবা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো ইসলামের নীতির পরিপন্থী। এতে মানুষের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও বিনষ্ট হতে পারে।

সাংবাদিকতাকে মহান ও দায়িত্বশীল পেশা উল্লেখ করে মুফতি শাহ্‌ আলম বলেন, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অন্যায়ের প্রতিবাদ, দুর্নীতি প্রকাশ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, অপসাংবাদিকতা, চাঞ্চল্যকর মিথ্যা সংবাদ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার, মন্তব্য কিংবা লাইক দেওয়ার আগেও তার সত্যতা ও সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি। পুরোনো ছবি, সম্পাদিত ভিডিও ও ভিত্তিহীন খবর প্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানান।

খুতবায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে খতিব বলেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে, তা-ই প্রচার করে।

পরিশেষে সাংবাদিক, আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য প্রচার এবং গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।