বাংলাদেশ ০৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত, সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার দুই প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন দুই নেতা। বৈঠক শেষে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপান আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। দুই দেশের এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

তিনি আরও বলেন, এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতার আলোচনার ফলাফল ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং দেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

দুই দেশের সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত হওয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত এবং সমঝোতা স্মারক সইয়ের তথ্য যৌথ বিবৃতি বা সরকারি সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

ট্যাগ :

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত, সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার দুই প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১০:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন দুই নেতা। বৈঠক শেষে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপান আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। দুই দেশের এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।

তিনি আরও বলেন, এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতার আলোচনার ফলাফল ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং দেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

দুই দেশের সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত হওয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত এবং সমঝোতা স্মারক সইয়ের তথ্য যৌথ বিবৃতি বা সরকারি সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।