বাংলাদেশ ০৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার টোকিওতে ৯০ বছর বয়সে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ইয়াসুও ফুকুদা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি তেল কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে বাবার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াসুও ফুকুদা। এরপর টানা সাতবার নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালে শিনজো আবে পদত্যাগ করলে ৭১ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফুকুদা। তাঁর বাবাও একই বয়সে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। জাপানের ইতিহাসে বাবা ও ছেলে উভয়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা এটিই একমাত্র উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফুকুদা। চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সফর বিনিময় হয়। এ ছাড়া পূর্ব চীন সাগরে গ্যাসক্ষেত্র যৌথভাবে উন্নয়নের বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।

২০০৮ সালে জি-৮ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। ওই সম্মেলনে পরিবেশবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন তিনি। একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ২০১২ সালে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেন।

ইয়াসুও ফুকুদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, ফুকুদার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার কারণে অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছিল। জাপানের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির সম্মান বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগ :

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন

প্রকাশিত: ০৭:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার টোকিওতে ৯০ বছর বয়সে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ইয়াসুও ফুকুদা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি তেল কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে বাবার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াসুও ফুকুদা। এরপর টানা সাতবার নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালে শিনজো আবে পদত্যাগ করলে ৭১ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফুকুদা। তাঁর বাবাও একই বয়সে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। জাপানের ইতিহাসে বাবা ও ছেলে উভয়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা এটিই একমাত্র উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফুকুদা। চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সফর বিনিময় হয়। এ ছাড়া পূর্ব চীন সাগরে গ্যাসক্ষেত্র যৌথভাবে উন্নয়নের বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।

২০০৮ সালে জি-৮ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। ওই সম্মেলনে পরিবেশবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন তিনি। একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ২০১২ সালে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেন।

ইয়াসুও ফুকুদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, ফুকুদার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার কারণে অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছিল। জাপানের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির সম্মান বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।