বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের তথ্য জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনায় জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পায়। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকের শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











