বাংলাদেশ ০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যালন ডি’অর ট্রফি জিতে যেভাবে কোটি কোটি টাকা পান ফুটবলাররা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’। প্রতি বছর এই সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ফুটবলার।
কিন্তু আপনি কি জানেন, ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কারটি জিতলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো নগদ অর্থ বা প্রাইজমানি দেওয়া হয় না?
ব্যালন ডি’অরের মূল আয়োজক ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ বিজয়ী খেলোয়াড়কে কোনো ক্যাশ প্রাইজ দেয় না। পুরস্কার হিসেবে ফুটবলাররা পান কেবল ব্রাস, ডাই এবং সোনার প্রলেপে তৈরি একটি সোনালি ট্রফি, যা তৈরিতে খরচ প্রায় ৩হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ টাকা)।
সরাসরি কোনো টাকা না পেলেও, এই ট্রফি জয়ের পরোক্ষ আর্থিক মূল্য আকাশচুম্বী। ক্লাবের কিংবা স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই পুরস্কার জিতে বড় অঙ্কের বোনাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তাতে ব্যালন ডি’অর জয়ের সাথে সাথেই ফুটবলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় কোটি কোটি টাকা।

১৯৫৬ সালে শুরু হয় ব্যালন ডি’অর
ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রচলন করে। শুরুতে ইউরোপের সেরা ফুটবলারদের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচন করা হতো। পরে নিয়মে পরিবর্তন এনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়।
বর্তমানে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের ফুটবলারদের জন্যই দেওয়া হয় এই সম্মাননা।

পুরস্কার জিতলে সরাসরি টাকা মেলে না
ব্যালন ডি’অরের আয়োজকরা বিজয়ীকে ট্রফি দিলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ অর্থ দেন না। তবে কোনো খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকলে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোনাসের পরিমাণ নির্ভর করে চুক্তির শর্তের ওপর।
এ ছাড়া ব্যালন ডি’অর জয়ের ফলে একজন ফুটবলারের বাণিজ্যিক মূল্য অনেক বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়ায় নতুন বিজ্ঞাপনী চুক্তি, স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব আয় নির্ভর করে খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা, বাজারমূল্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ওপর।

স্পনসর ও ক্লাব থেকে মিলতে পারে বড় বোনাস
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বোনাস পাওয়ার নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে এই পুরস্কার জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার তারকা লুকা মদ্রিচ তাঁর স্পনসর প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে এই অর্থ ব্যালন ডি’অরের আয়োজকদের দেওয়া পুরস্কার ছিল না। বরং স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পাওয়া বোনাস হিসেবে এর উল্লেখ করা হয়।
একইভাবে, কোনো খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের শর্ত যুক্ত থাকলেও পুরস্কার জয়ের পর তাঁর আয় বেড়ে যেতে পারে। তবে এ ধরনের চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে আসে না। খেলোয়াড়ভেদে বোনাসের অঙ্কেও পার্থক্য থাকে।

ব্যালন ডি’অরের ট্রফি কি পুরোপুরি সোনার তৈরি?
সোনালি রঙের আকর্ষণীয় ট্রফিটি দেখে অনেকের ধারণা হতে পারে, এটি পুরোপুরি সোনা দিয়ে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিও ট্রফিটি হাতে তৈরি করে। এর বলের আকৃতির মূল অংশটি পিতল দিয়ে তৈরি, যার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। নিচের অংশে ব্যবহার করা হয় পাইরাইট পাথরের ভিত্তি।
ট্রফিটি তৈরিতে কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় লাগে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর নির্মাণমূল্য নিয়েও প্রায় তিন হাজার ইউরোর একটি হিসাব প্রচলিত রয়েছে। তবে আয়োজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্রফিটির নির্দিষ্ট মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই এই অঙ্ককে নিশ্চিত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ না পেলেও এই পুরস্কার একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। ক্লাবের বোনাস ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে সেই স্বীকৃতি থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্যাগ :

ব্যালন ডি’অর ট্রফি জিতে যেভাবে কোটি কোটি টাকা পান ফুটবলাররা

প্রকাশিত: ১২:১৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’। প্রতি বছর এই সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ফুটবলার।
কিন্তু আপনি কি জানেন, ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কারটি জিতলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো নগদ অর্থ বা প্রাইজমানি দেওয়া হয় না?
ব্যালন ডি’অরের মূল আয়োজক ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ বিজয়ী খেলোয়াড়কে কোনো ক্যাশ প্রাইজ দেয় না। পুরস্কার হিসেবে ফুটবলাররা পান কেবল ব্রাস, ডাই এবং সোনার প্রলেপে তৈরি একটি সোনালি ট্রফি, যা তৈরিতে খরচ প্রায় ৩হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ টাকা)।
সরাসরি কোনো টাকা না পেলেও, এই ট্রফি জয়ের পরোক্ষ আর্থিক মূল্য আকাশচুম্বী। ক্লাবের কিংবা স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই পুরস্কার জিতে বড় অঙ্কের বোনাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তাতে ব্যালন ডি’অর জয়ের সাথে সাথেই ফুটবলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় কোটি কোটি টাকা।

১৯৫৬ সালে শুরু হয় ব্যালন ডি’অর
ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রচলন করে। শুরুতে ইউরোপের সেরা ফুটবলারদের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচন করা হতো। পরে নিয়মে পরিবর্তন এনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়।
বর্তমানে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের ফুটবলারদের জন্যই দেওয়া হয় এই সম্মাননা।

পুরস্কার জিতলে সরাসরি টাকা মেলে না
ব্যালন ডি’অরের আয়োজকরা বিজয়ীকে ট্রফি দিলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ অর্থ দেন না। তবে কোনো খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকলে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোনাসের পরিমাণ নির্ভর করে চুক্তির শর্তের ওপর।
এ ছাড়া ব্যালন ডি’অর জয়ের ফলে একজন ফুটবলারের বাণিজ্যিক মূল্য অনেক বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়ায় নতুন বিজ্ঞাপনী চুক্তি, স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব আয় নির্ভর করে খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা, বাজারমূল্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ওপর।

স্পনসর ও ক্লাব থেকে মিলতে পারে বড় বোনাস
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বোনাস পাওয়ার নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে এই পুরস্কার জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার তারকা লুকা মদ্রিচ তাঁর স্পনসর প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে এই অর্থ ব্যালন ডি’অরের আয়োজকদের দেওয়া পুরস্কার ছিল না। বরং স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পাওয়া বোনাস হিসেবে এর উল্লেখ করা হয়।
একইভাবে, কোনো খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের শর্ত যুক্ত থাকলেও পুরস্কার জয়ের পর তাঁর আয় বেড়ে যেতে পারে। তবে এ ধরনের চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে আসে না। খেলোয়াড়ভেদে বোনাসের অঙ্কেও পার্থক্য থাকে।

ব্যালন ডি’অরের ট্রফি কি পুরোপুরি সোনার তৈরি?
সোনালি রঙের আকর্ষণীয় ট্রফিটি দেখে অনেকের ধারণা হতে পারে, এটি পুরোপুরি সোনা দিয়ে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিও ট্রফিটি হাতে তৈরি করে। এর বলের আকৃতির মূল অংশটি পিতল দিয়ে তৈরি, যার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। নিচের অংশে ব্যবহার করা হয় পাইরাইট পাথরের ভিত্তি।
ট্রফিটি তৈরিতে কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় লাগে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর নির্মাণমূল্য নিয়েও প্রায় তিন হাজার ইউরোর একটি হিসাব প্রচলিত রয়েছে। তবে আয়োজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্রফিটির নির্দিষ্ট মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই এই অঙ্ককে নিশ্চিত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ না পেলেও এই পুরস্কার একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। ক্লাবের বোনাস ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে সেই স্বীকৃতি থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।