বাংলাদেশ ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের শুল্কসুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

 

তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণ, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাজারের শর্ত অনুযায়ী পণ্যের মান ও বিধিবিধান পরিপালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আজ রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল সোর্সিং ডায়ালগে’ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চেম্বার, ক্রেতা ফোরাম এবং বিদেশি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের উন্নয়নবিষয়ক কাউন্সেলর ও উপ-উন্নয়ন পরিচালক মার্টিন ডসন যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলো এ স্কিমের আওতায় বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার এখনো করতে পারেনি।

বাংলাদেশি উৎপাদকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংযোগ স্থাপন এবং রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে দেশে কার্যরত স্থানীয় ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও সোর্সিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিসিটিএস সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের ধারণা বাড়াতে ইপিবি ও ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে স্কিমটির আওতায় সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা এবং বিধিবিধান পরিপালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শুল্কবহির্ভূত বাধা মোকাবিলা এবং অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বছর ইপিবি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতের সংখ্যা আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করেছে। পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবাখাতের প্রসারের সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, শিল্প খাতের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের কাঠামোয় স্বাস্থ্যসেবার মতো সেবাখাত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাজারে প্রবেশের সুযোগকে কার্যকর রপ্তানি আদেশে রূপ দিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাট ও পাটজাত পণ্যে নতুন সম্ভাবনা

আলোচনায় প্রচলিত ও উদীয়মান অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

বিশেষ করে পরিবেশে সহজে পচনশীল প্যাকেজিং সামগ্রীর আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইন্দোনেশিয়ায় পাটের সুতা, পাটের বস্তা, তামাক, তৈরি পোশাক ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উচ্চমূল্যের খাতেও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি এসব খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, বিমান পরিবহন ও আতিথেয়তা শিল্পের প্রতিও অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে গুরুত্ব

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাণিজ্য মেলায় উৎপাদক, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

হাসান আরিফ ২০১৫ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য মেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশি সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রচারচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট এবং বাণিজ্য মেলার সরাসরি ভিডিও ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাজারেও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজছে। ব্রাজিল-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি জানান, রিও ডি জেনেইরোতে বাণিজ্য প্রচার কার্যক্রমের পর আগামী ২২ থেকে ২৫ মার্চ সাও পাওলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো’ আয়োজন করা হবে।

ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সির একজন প্রতিনিধি সম্প্রতি বাংলাদেশের ১৪টি কোম্পানির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফরের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া ইউরোপের বৃহত্তর বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশের সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কসোভো নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এর সাফল্যে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অডিওভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র এবং অনুষ্ঠানের সরাসরি ভিডিওচিত্র তৈরির প্রস্তাবও দেন তারা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যানের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, যুক্তরাজ্যের শুল্কসুবিধার কার্যকর ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচার– এই উদ্যোগগুলোর সম্মিলিত বাস্তবায়ন বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো ও রপ্তানি ভিত্তিকে আরও স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগ :

যুক্তরাজ্যের শুল্কসুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণ, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাজারের শর্ত অনুযায়ী পণ্যের মান ও বিধিবিধান পরিপালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আজ রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল সোর্সিং ডায়ালগে’ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চেম্বার, ক্রেতা ফোরাম এবং বিদেশি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের উন্নয়নবিষয়ক কাউন্সেলর ও উপ-উন্নয়ন পরিচালক মার্টিন ডসন যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলো এ স্কিমের আওতায় বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার এখনো করতে পারেনি।

বাংলাদেশি উৎপাদকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংযোগ স্থাপন এবং রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে দেশে কার্যরত স্থানীয় ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও সোর্সিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিসিটিএস সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের ধারণা বাড়াতে ইপিবি ও ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে স্কিমটির আওতায় সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা এবং বিধিবিধান পরিপালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শুল্কবহির্ভূত বাধা মোকাবিলা এবং অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বছর ইপিবি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতের সংখ্যা আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করেছে। পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবাখাতের প্রসারের সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, শিল্প খাতের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের কাঠামোয় স্বাস্থ্যসেবার মতো সেবাখাত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাজারে প্রবেশের সুযোগকে কার্যকর রপ্তানি আদেশে রূপ দিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাট ও পাটজাত পণ্যে নতুন সম্ভাবনা

আলোচনায় প্রচলিত ও উদীয়মান অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

বিশেষ করে পরিবেশে সহজে পচনশীল প্যাকেজিং সামগ্রীর আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইন্দোনেশিয়ায় পাটের সুতা, পাটের বস্তা, তামাক, তৈরি পোশাক ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উচ্চমূল্যের খাতেও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি এসব খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, বিমান পরিবহন ও আতিথেয়তা শিল্পের প্রতিও অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে গুরুত্ব

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাণিজ্য মেলায় উৎপাদক, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

হাসান আরিফ ২০১৫ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য মেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশি সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রচারচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট এবং বাণিজ্য মেলার সরাসরি ভিডিও ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাজারেও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজছে। ব্রাজিল-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি জানান, রিও ডি জেনেইরোতে বাণিজ্য প্রচার কার্যক্রমের পর আগামী ২২ থেকে ২৫ মার্চ সাও পাওলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো’ আয়োজন করা হবে।

ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সির একজন প্রতিনিধি সম্প্রতি বাংলাদেশের ১৪টি কোম্পানির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফরের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া ইউরোপের বৃহত্তর বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশের সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কসোভো নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এর সাফল্যে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অডিওভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র এবং অনুষ্ঠানের সরাসরি ভিডিওচিত্র তৈরির প্রস্তাবও দেন তারা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যানের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, যুক্তরাজ্যের শুল্কসুবিধার কার্যকর ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচার– এই উদ্যোগগুলোর সম্মিলিত বাস্তবায়ন বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো ও রপ্তানি ভিত্তিকে আরও স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।