বাংলাদেশ ০৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে টোকিও। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করাও সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম জাপান সফর। সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা করছে জাপান।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, এ সফর বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে দেশটিতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে বলেও মনে করছে জাপান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। জাপানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সফরে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, বেসামরিক বিমান চলাচল ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়েও দুই দেশ আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশটির সহায়তায় মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জাপান আশা করছে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন দুই দেশের ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করবে।

ট্যাগ :

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আশা

প্রকাশিত: ০৩:৩৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে টোকিও। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করাও সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম জাপান সফর। সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা করছে জাপান।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, এ সফর বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে দেশটিতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে বলেও মনে করছে জাপান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। জাপানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সফরে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, বেসামরিক বিমান চলাচল ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়েও দুই দেশ আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশটির সহায়তায় মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জাপান আশা করছে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন দুই দেশের ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করবে।