বাংলাদেশ ০৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্যে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

দেশে খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান ও অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের তুলনায় সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ বেশি হওয়ায় মজুদের ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদে রেকর্ড হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের শেষে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৪১ হাজার টন, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানির ওপর নির্ভর করে মজুদের এই রেকর্ড তৈরি হয়। তবে চলতি অক্টোবরের প্রথমার্ধে খাদ্যশস্যের মজুদ কমে সাড়ে ২২ লাখ টনে নেমেছে। মূলত সরকারি বিতরণে গতি বাড়ায় সম্প্রতি মজুদ কিছুটা কমেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টন। আর গত অর্থবছরে আমদানি বেড়েছিল সাড়ে ৯ লাখ টনের বেশি। একই সময়ে খাদ্যশস্যের সরকারি বিতরণ বেড়েছে ৬৯ হাজার টন। গত অর্থবছরে বিতরণ বেড়েছিল প্রায় আড়াই লাখ টন। তবে আমদানি ও বিতরণ বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে বোরো চাল সংগ্রহ কমেছে।

এমন বাস্তবতায় দেশের খাদ্য মজুদ শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সংগ্রহ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহে ঘাটতি থাকলে চাহিদা মেটাতে ভবিষ্যতেও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে না। সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়লেও আমদানিনির্ভরতা কমাতে না পারা এবং অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমে যাওয়া দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত উৎপাদনের ব্যবধান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেচে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে খাদ্য আমদানির প্রয়োজন বাড়ছে।

অন্যদিকে, উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ধান ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে অনাগ্রহ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি মজুদ বাড়ানো কিংবা আমদানি করে চাহিদা মেটানোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদনে প্রণোদনা দেওয়া, কৃষিজমি রক্ষা, সরকারি সংগ্রহব্যবস্থা কার্যকর করা এবং খাদ্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী দামে খাদ্য কিনতে পারে।

বেড়েছে আমদানিনির্ভরতা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৫১ লাখ ৫২ হাজার টন। এর বিপরীতে প্রকৃত মোট উৎপাদন প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার টন। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন কম হয়েছে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার টন।

ওই অর্থবছরে নিট অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার টন। বীজ, পশুখাদ্য ও অপচয়সহ বিভিন্ন খাতে ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে নিট উৎপাদনের হিসাব করা হয়।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে দেশে চাল ও গম আমদানি হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার টন। সে হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টন বা ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

গত অর্থবছরেও খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারি খাতে আমদানি ছিল ১৩ লাখ ৬ হাজার টন এবং বেসরকারি খাতে ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টন। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ মোট আমদানি ছিল ৭৬ লাখ ৭২ হাজার টন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার টন।

সংগ্রহের তুলনায় বিতরণ বেশি

দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম একই সঙ্গে চলে। উৎপাদন মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল কেনার মাধ্যমে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও বিপণন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ ছিল ২৬ লাখ ৭১ হাজার টন। একই সময়ে সরকারি বিতরণের পরিমাণ ছিল ৩৫ লাখ ৮ হাজার টন। অর্থাৎ, ওই অর্থবছরে সরকারি বিতরণ অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের তুলনায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার টন বেশি ছিল।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ ছিল ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টন। সে হিসাবে গত অর্থবছরে বিতরণ বেড়েছিল প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার টন।

চলতি অর্থবছরেও সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ বেড়েছে। জুলাই-আগস্টে চাল ও গম মিলিয়ে সরকার বিতরণ করেছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন। অর্থাৎ, সরকারি বিতরণ বেড়েছে ৬৯ হাজার টন বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে আমদানি ও বিতরণ বাড়লেও সরকারের বোরো চাল সংগ্রহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বোরো চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ১৯ হাজার টন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বোরো চাল সংগ্রহ কমেছে ১ লাখ ৯২ হাজার টন।

সরকারি মজুদে রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ সংগ্রহে ঘাটতি খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সরকারি সংগ্রহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ট্যাগ :

খাদ্যে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

প্রকাশিত: ০৮:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশে খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান ও অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের তুলনায় সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ বেশি হওয়ায় মজুদের ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদে রেকর্ড হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের শেষে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৪১ হাজার টন, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানির ওপর নির্ভর করে মজুদের এই রেকর্ড তৈরি হয়। তবে চলতি অক্টোবরের প্রথমার্ধে খাদ্যশস্যের মজুদ কমে সাড়ে ২২ লাখ টনে নেমেছে। মূলত সরকারি বিতরণে গতি বাড়ায় সম্প্রতি মজুদ কিছুটা কমেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টন। আর গত অর্থবছরে আমদানি বেড়েছিল সাড়ে ৯ লাখ টনের বেশি। একই সময়ে খাদ্যশস্যের সরকারি বিতরণ বেড়েছে ৬৯ হাজার টন। গত অর্থবছরে বিতরণ বেড়েছিল প্রায় আড়াই লাখ টন। তবে আমদানি ও বিতরণ বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে বোরো চাল সংগ্রহ কমেছে।

এমন বাস্তবতায় দেশের খাদ্য মজুদ শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সংগ্রহ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহে ঘাটতি থাকলে চাহিদা মেটাতে ভবিষ্যতেও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে না। সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়লেও আমদানিনির্ভরতা কমাতে না পারা এবং অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমে যাওয়া দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত উৎপাদনের ব্যবধান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেচে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে খাদ্য আমদানির প্রয়োজন বাড়ছে।

অন্যদিকে, উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ধান ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে অনাগ্রহ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি মজুদ বাড়ানো কিংবা আমদানি করে চাহিদা মেটানোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদনে প্রণোদনা দেওয়া, কৃষিজমি রক্ষা, সরকারি সংগ্রহব্যবস্থা কার্যকর করা এবং খাদ্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী দামে খাদ্য কিনতে পারে।

বেড়েছে আমদানিনির্ভরতা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৫১ লাখ ৫২ হাজার টন। এর বিপরীতে প্রকৃত মোট উৎপাদন প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার টন। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন কম হয়েছে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার টন।

ওই অর্থবছরে নিট অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার টন। বীজ, পশুখাদ্য ও অপচয়সহ বিভিন্ন খাতে ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে নিট উৎপাদনের হিসাব করা হয়।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে দেশে চাল ও গম আমদানি হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার টন। সে হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টন বা ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

গত অর্থবছরেও খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে দেশে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারি খাতে আমদানি ছিল ১৩ লাখ ৬ হাজার টন এবং বেসরকারি খাতে ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টন। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ মোট আমদানি ছিল ৭৬ লাখ ৭২ হাজার টন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যশস্য আমদানি বেড়েছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার টন।

সংগ্রহের তুলনায় বিতরণ বেশি

দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম একই সঙ্গে চলে। উৎপাদন মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল কেনার মাধ্যমে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও বিপণন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ ছিল ২৬ লাখ ৭১ হাজার টন। একই সময়ে সরকারি বিতরণের পরিমাণ ছিল ৩৫ লাখ ৮ হাজার টন। অর্থাৎ, ওই অর্থবছরে সরকারি বিতরণ অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের তুলনায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার টন বেশি ছিল।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ ছিল ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টন। সে হিসাবে গত অর্থবছরে বিতরণ বেড়েছিল প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার টন।

চলতি অর্থবছরেও সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ বেড়েছে। জুলাই-আগস্টে চাল ও গম মিলিয়ে সরকার বিতরণ করেছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন। অর্থাৎ, সরকারি বিতরণ বেড়েছে ৬৯ হাজার টন বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে আমদানি ও বিতরণ বাড়লেও সরকারের বোরো চাল সংগ্রহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বোরো চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ১৯ হাজার টন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বোরো চাল সংগ্রহ কমেছে ১ লাখ ৯২ হাজার টন।

সরকারি মজুদে রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ সংগ্রহে ঘাটতি খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সরকারি সংগ্রহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।