হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে তুলতে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলার ৮৮টি ইউনিয়নের মধ্যে শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নে প্রথম এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বাহাড়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাসেন্দ্র চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার), কৃষকদলের সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ব্রজেশ রঞ্জন চৌধুরী ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮টি ইউনিয়নের মধ্যে শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নে প্রথম সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
অনুষ্ঠানে নারীদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার ফিডিং কার্যক্রম চালু করেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
নারী ও পুরুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, মেয়েদের ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া কৃষকদের উন্নয়নে কৃষক কার্ড, পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সরকার নারীদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ, কৃষকদের কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এসব সুবিধা পেতে কাউকে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যক্তি এসব সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সেলাই প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বাহাড়া ইউনিয়নের প্রশিক্ষণ নিতে আসা নারীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুনামগঞ্জের ডিবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিক সাঈদুর রহমান আসাদ, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ছায়াদ হোসেন সবুজ, শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দিলুয়ার হোসেন, সহসভাপতি কাজী বদরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন তালুকদার সুজন ও সদস্য বিপ্লব চন্দ্র রায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











